Madan Mitra Exclusive Interview Politics Controversy Bangla News


কলকাতা: মদন মিত্র, রাজনীতির আঙিনায় ‘কালারফুল’ এবং বিতর্কিত নাম। কামারহাটিতে বিধায়ক পদে জিতলেও মমতার মন্ত্রীসভায় মন্ত্রিত্ব পাননি। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও কেউ নেই। রঙিন পাঞ্জাবি থেকে সানগ্লাস, প্রেম, ফ্যান ফলোয়িং এবিপি আনন্দের সাক্ষাৎকারে এমন একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন মদন মিত্র। 

এবিপি লাইভকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র বলেন, “যদি কাউকে কথা দিয়ে থাকি, আছি তাঁর সঙ্গে, তাহলে কেউ জানুক আর না জানুক, সে জানে আছি তাঁর সঙ্গে। আমার যা ভাল লাগে, আমি তা করি। তোমার ভাল লাগলে তুমি আমার কাছে থাকবে। তোমার ভাল যদি না লাগে আমি বলব তুমি যেও না, কিন্তু চলে গেলে তো আমার কিছু বলার নেই। আমি মন্ত্রী নই, আমি এক লক্ষ ভোটে জিততে পারিনি। মানুষের মধ্যে হয়ত সেভাবে কাজও করতে পারিনি। কিন্তু মানুষের যা ভালবাসা পেয়েছি তা আমার থেকে রবীন্দ্রনাথ বেশি পেয়েছিল বলে মনে করিনা। তখন জনসংখ্যাও কম ছিল। রবীন্দ্রনাথ লক্ষ ভালবাসা পেলে আমি কোটি পেয়েছি।”

জনপ্রিয়তা ও বিতর্ক প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, “বিতর্কের কিছুই নেই। মদন মিত্র যখন মারা যাবেন তখন দেড় লক্ষ লোক যাবে। পার্টিতে যারা নতুন এসেছে তাঁরা পদ পেয়েছে। অনেকেই জানতে চায় পরে দলে যোগ দিয়ে পদ পেয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ, তা নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই, তাদের বলি রবীন্দ্রনাথের ১০০ বছর আগে থেকে লোকে কবিতা লেখে তাদের আগে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়েছিলেন, এগুলো কোনও ব্যাপার নয়।”

নিজের সানগ্লাস প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। কামারহাটির বিধায়কের কথায়, ” আমার চোখ দেখলে লোকে বুঝতে পারবে কী বলতে চাই, কিন্তু আমি যদি হালকা আবরণে থাকি, তাহলে বুঝতে পারি কে কে লক্ষ্য করছে, কে করছে না। যত ইগনোর করবে তত কাছে আসবে। আমি পাপ করলেও সেই পাপ বলে করি। কেউ যদি আমাকে বলে পাপ করতে তবেই করব। কেউ না বললে সেই পাপ আমি করব না। নিজেকে পরিস্কার রাখার চেষ্টা করি। ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা, যখন চলে যাব, লোকে যেন বলতে পারে লোকটা ইমানদার ছিল, গদ্দার ছিল না।” 

নিজের প্রেম ও বিয়ে নিয়েও অকপট মদন মিত্র। বলেন, “আমার বউ একটাই কিন্তু!, আমি যদি ৪০ বছর আগেও কাউকে বলে থাকি যে আমি তার সঙ্গে আছি তাহলে কেউ জানুক না জানুক সে জানে আমি তার সঙ্গে আছি। যতক্ষণ না সে আমায় ছাড়বে আমি তাকে ছাড়ব না। আমার বউ ঝুমা কখনও বাপের বাড়ি যায় না। তাতে দু’টো রিস্ক আছে! কারণ যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখবে অন্য কেউ বসে আছে! আর একটা হল যতবার এরকম চেষ্টা করেছে ততবার দেখেছে আমি ওর আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে বসে আছি। এই নাটকটা আমি খুব ভাল জানি। আমার বউ আমার ডিপ ডিফেন্স। আমার বউ এটা বিশ্বাস করে যে মদন মিত্র যাই করুক মদন মিত্র কোনও অন্যায় করবে না। কোনটা অন্যায় কোনটা ন্যায় সেটা বউকে কনভিন্স করতে হবে! প্রেম আমার কাছে একটা ফিক্সড ডিপোজিট। প্রেম আমার কাছে ফ্লাকচুয়েট করে। মূহুর্তে মূহুর্তে প্রেম হয়।” “এরপর আধেক ধরা পড়েছি” গান গান তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমি কিন্তু এবিপিকে দেখি। এবিপিকে বিশেষ করে দেখি।”

রাজনীতি নিয়েও অকপট মদন। তৃণমূলের এই বিধায়কের কথায়, “ছোটবেলায় আমি জানতাম না আমি এমএলএ ও মন্ত্রী হব। এমন অনেক কিছুই করেছি যা এমএলএ মন্ত্রীদের করা উচিত নয়। এবিপিকে বলব একটি ভোট করতে যে মদন মিত্রের পক্ষে কত মানুষ ও বিপক্ষে কত মানুষ। ইন্সটাগ্রামে আমার ৫৪% ফলোয়ার ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। তার মধ্যে ৪৮% মহিলা। পুজো এলেই মনে পড়ে বসন্ত কেবিনের কথা, দিলখুশার কথা। নর্থ কলকাতার প্রতি আমার একটি আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। এখানে এমন কোনও রক নেই যেখানে আমি আড্ডা মারিনি। আমার একটাই প্রার্থনা পরেরবার দোলা, গজ এসব কিছুই দরকার নেই। আমরা তোমায় সোনার ডালায় করে নিয়ে আসব তুমি সত্যিকারের মমতাকে কাজ করতে দাও। ২০২২-এ আমার মনে হয় বাংলায় রেঁনেসা আসছে। অনেক কষ্টে আমরা ২০২০ ও ২০২১ কাটালাম মায়ের কাছে প্রার্থনা আমরা ২০২২ যেন সবচেয়ে ভালভাবে কাটাতে পারি।”





Source link